মাশরুম কি | মাশরুম চাষ পদ্ধতি | মাশরুমের উপকারিতা | benefits of mushroom

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় ভিউয়ার, আজকে আলোচনা করবো মাশরুম চাষ পদ্ধতি | মাশরুমের উপকারিতা | benefits of mushroom. পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন এবং আমাদের সাথেই থাকুন ৷

মাশরুম কি?

benefits of mushroom

মাশরুম | mushroom হলো এক ধরনের খাওয়ার উপযোগী মৃতজীবী ছত্রাকের ফলন্ত অঙ্গ , যা ইউমাইকোটা বিভাগের বেসিডিওমাইসেটিস ও এসকোমাইসেটিস শ্রেণিভুক্ত । মাশরুম বিশ্বের সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে ( টিসু কালচার ) উৎপন্ন বীজ দ্বারা সম্পূর্ণ পরিছন্ন পরিবেশে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কোনো প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মুক্ত অর্গানিকভাবে চাষ করা সুস্বাদু , পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণসম্পন্ন সবজি যা সম্পূর্ণ হালাল , নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত প্রাকৃতিক অর্গানিক খাবার ।

খাদ্য তালিকায় কেন বেছে নিবেন মাশরুম

আমরা সবাই জানি মাশরুম বা ছাতু এক ধরনের ক্লোরোফিলবিহীন ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ । আমাদের এই বিশ্বে প্রায় ৪৫,০০০ ধরনের ছত্রাক আছে যার মধ্যে প্রায় ২০০০ ছত্রাক আমরা সবজি হিসাবে গ্রহণ করতে পারি । তাই খাদ্যগুণে মোট দুই ধরণের মাশরুম আছে । যথা :
■ ভক্ষণযোগ্য ছত্রাক ( Edible mushroom ) এবং
■ বিষাক্ত ছত্রাক ( Nonedible mushroom )

বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষ করা মাশরুম খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করলে বিষক্রিয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই । আমাদের দেশে সাধারণত চার ধরনের মাশরুম চাষ করা হয় যথা :
১/ সাদা বোতাম ছাতু ( Button mushroom ) – A garicus spp .
২/ ঝিনুক ছাতু বা ধিংরি ছাতু ( Oyster mushroom ) Pleurotus Spp .
৩/ পোয়াল ছাতু ( Paddy straw mushroom ) – Volvariella spp .
৪/ দুধ ছাতু ( Milky mushroom ) Calocybe spp .

মাশরুমের সুন্দর স্বাদ ও সহজে হজম হওয়ার কারণে সারা পৃথিবীতে একে উচ্চ গুণমান সম্পন্ন সবজির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে । যেখানে মাছ বা মাংস ২০-৪০ % হজম হয় সেখানে মাশরুম সবজি প্রায় ৮০ % হজম হয়ে শরীর গঠনের কাজে লাগে । এছাড়া মাশরুমের মৃদু ও রুচিকর গন্ধ ভোজনবিলাসীদের দারুণ প্রিয় । এই সবজির কচকচে ভাব ( Cartilage feelings ) আমিষ ও নিরামিষ উভয় ধরনের মানুষের কাছেই সমান সমাদরের । যেমন ধরুন অন্যান্য মাছের সাপেক্ষে চিংড়ি মাছের প্রোটিন মূল্য মোটেই বেশি নয় তা সত্ত্বেও চিংড়ির গন্ধ ও কচকচে ভাব ভোজনরসিকদের দারুণ প্রিয় হওয়ায় এর দামও বেশ চড়া । মাশরুমের তুলনামূলক পুষ্টিমূল্য বিচার করলে নিরামিষ ভোজীরা মাশরুমকে আমিষ হিসাবে নিশ্চয়ই বেছে নেবেন ।

মাশরুমের উপকারিতা| benefits of mushroom


মাশরুম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। মাশরুমে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস পাওয়া যায়। এ কারণে এটি হাড়ের জন্য খুবই উপকারী। মাশরুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখে।

1. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

মাশরুম( mushroom ) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। কেননা, ইমিউন সিস্টেম শরীরকে সংক্রমণ এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে থাকে ৷ এটি একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসাবে বিবেচিত হয়, যা মাইক্রোবিয়াল এবং অন্যান্য ছত্রাক সংক্রমণও নিরাময় করে। মাশরুমে পাওয়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোকেমিক্যালস এটিকে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল করে তোলে, যা মৌসুমী সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

2. হার্টের জন্য উপকারী

মাশরুমে উপস্থিত ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে উপস্থিত বিট গ্লুকান নামক উপাদান কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তাই এই উচ্চ পুষ্টি উপাদান থেকে হৃদপিণ্ডকে রক্ষা করে। এ কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে। তাছাড়াও মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সোডিয়াম, সেইসাথে ইরিটাডেনাইন, ফেনোলিক যৌগ এবং স্টেরলের মতো উপাদান রয়েছে। এগুলো সবই ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে।

3. ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী

মাশরুমকে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সর্বোত্তম খাদ্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এটি ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার সমৃদ্ধ এবং একই সাথে এতে চর্বি, কার্বোহাইড্রেট এবং চিনি থাকে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শরীরে ইনসুলিন তৈরিতেও সাহায্য করে। NCBI-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মাশরুমের উপকারিতা সম্পর্কিত একটি গবেষণা থেকে এটি স্পষ্ট। এটি বলা হয়েছে যে নির্দিষ্ট ধরণের মাশরুমে অ্যান্টিডায়াবেটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা রক্তে উপস্থিত চিনির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীরা তাদের খাদ্যতালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

4. পেটের সমস্যা নিরাময়

মাশরুম সেবনে পেটের সমস্যা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একই সময়ে, এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও বজায় রাখে, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড এবং আয়রন পাওয়া যায়। মাশরুম খাওয়ার সুবিধার মধ্যে রয়েছে আলসারের লক্ষণগুলি হ্রাস করা ৷ এ ছাড়া মাশরুমে উপস্থিত ফাইবারের পরিমাণও কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় কার্যকরী হতে পারে ৷

5. হাড়ের জন্য উপকারী

হাড় মজবুত রাখতে মাশরুম খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাড় মজবুত করতে ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। মাশরুমে রয়েছে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি, যা হাড় মজবুত করতে খুবই সহায়ক। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় দুর্বল হতে শুরু করে, এমন পরিস্থিতিতে মাশরুম খাওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।

6. ওজন কমাতে

মাশরুম খাওয়ার উপকারিতা ক্রমবর্ধমান ওজন কমাতে ও নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। আসলে, চীনের একটি গবেষণা সংস্থার মতে, মাশরুমে স্থূলতা প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ওজন কমাতে উপকারী হতে পারে। একই সময়ে, উচ্চ খাদ্যতালিকাগত ফাইবার এবং কম চর্বিযুক্ত উচ্চ মানের প্রোটিন ধারণকারী মাশরুম ওজন কমানোর জন্য একটি ভাল খাদ্য হতে পারে ৷

মাশরুম চাষ পদ্ধতি | Mushroom Cultivation Method

ভালোমানের মাশরুম চাষ করার জন্য এর সকল পদ্ধতি আয়ত্ত্ব করতে হবে ৷ চাষ পদ্ধতি ভালোভাবে জানতে ও হাতে কলমে শিখতে হবে ৷ মাশরুম চাষ করার জন্য সরকারি-বেসরকারি ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ৷ কিভাবে মাশরুম চাষ করতে হয়, কিভাবে বাজারজাত করতে হয়, মাশরুম চাষের সমস্যা ও উপকারিতা ইত্যাদি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কিভাবে মাশরুম চাষ করতে হয় A to Z সবকিছু নিচের পিডিএফ বইটিতে রয়েছে ৷ বইটি পড়ার অনুরোধ রইলো

ডাউনলোড করুনঃ মাশরুম চাষ পদ্ধতি বই PDF

মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ | Mushroom Cultivation Training

বাংলাদেশে মাশরুম চাষ ও প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাভারে ‘মাশরুম চাষ সেন্টার’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে। প্রশিক্ষণার্থীদের এখানে প্রশিক্ষণের জন্য নিবন্ধন করতে হবে। এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের সময়কাল তিন দিন পর্যন্ত। এখানে প্রশিক্ষণার্থীদের সরকারী সনদ প্রদানের মাধ্যমে কিভাবে মাশরুম চাষ করতে হয়, কিভাবে বাজারজাত করতে হয়, মাশরুম চাষের সমস্যা ও উপকারিতা ইত্যাদি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার জন্য সরকারের হাতে বেশি সময় না থাকায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও মাশরুম চাষের ওপর হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ অ্যালোভেরা | এলোভেরার উপকারিতা

1. মাশরুম দাম? mushroom price in bd

মাশরুমের দাম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হয়ে থাকে ৷ স্থান ভেবে দাম ভিন্ন হয়ে থাকে ৷ তবে একটি ধারনার জন্য বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক কেজি তাজা বোতাম মাশরুমের দাম 500 টাকা। এক কেজি শুকনো বা গুঁড়া সেজ মাশরুম 4000 টাকা। এক কেজি তাজা কানের মাশরুম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায় এবং শুকনো কানের মাশরুম ১২০০ টাকায়।

2. মাশরুম বীজ কোথায় পাওয়া যায়?

মাশরুম | Mushroom বীজ কোথায় পাওয়া যায় এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন শুনা যায় ৷ আপনি কৃষি অফিসে মাশরুমের বীজ পেতে পারেন । অফিসে গিয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে ৷ আবার অনেকে মাশরুম চাষ করে তাদের কাছেও মাশরুম বীজ পেতে পারেন ।

3. মাশরুম কোথায় বিক্রি করা যায়?

মাশরুম সাধারণত বিভিন্ন হোটেলে বিক্রি হয়। এছাড়া আগোরা, নন্দন, মিনা বাজার ইত্যাদি বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ভালো ও বেশি পরিমাণ মাশরুম সরবরাহ করতে পারলে বিক্রির সুযোগ রয়েছে। খোলা বাজারে নিজ উদ্যোগে মাশরুম বিক্রি করা সম্ভব। সাধারণত বাজারে মাশরুম প্রতি কেজি ১৫০-২০০ টাকা দরে ​​বিক্রি হয়।